অনন্যা দাশ



বিল'কুল' বিলেত !



শুরুতেই স্পয়েলার অ্যালার্ট দিয়ে নিচ্ছিযারা যারা গুটি পায়ে বিলেত ভ্রমণে নিজে নিজে জানতে চাও তাদের এটা না পড়াই শ্রেয়তবে এখানে ঠিক প্রথমদিন বিলেতে পা রেখে কেমন অনুরণন, আবেগ, কালচার-শক্ইত্যাদি উথলিয়ে উঠল, এমন উপাদান খুঁজতে গেলেও কেস খাবেপড়েছ মোঘলের হাতে..(এমনই কি বাগধারা ? ধ্যাতছাই !!) মোটকথা, ভবঘুরে লেভেলমোঘল... তাই হারিয়ে যাবার কোনও সীন্নেইমন চাইলেই কি হারানো যায় রে হাঁদা ?

একগাদা লাইন থাকা সত্বেও পাতাল রেলে হারানো দুষ্করসবজায়গায় সংকেত, তীর, ধনুক, কামান, বিমান (অর্থাৎ প্রস্থান) সব ছকে বাঁধাবেলাইনে যাবার জো নেইভুল করে বেপথে গেলেও স্টেশনমাস্টার হাসিমুখে সহি পথ বাতলে দেবেআর গরমকালে থেকে থেকে announce  করবে জলের বোতল সঙ্গে রাখতে তাছাড়া যাতে মালপত্র ফেলে না যায় কোন আত্মভোলা যাত্রী তা নিয়ে শীত, গ্রীষ্ম, শরত, বসন্ত সব সময় হ্যাজানোএক একটা স্টেশনে আবার বিভিন্ন গান বাজনা চলেতবে সেই গান রানী বা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারী কারও নেতৃত্বে রিহার্সেল না করেই পারফর্ম করে বলেই জানি!

সবচেয়ে মজার St. Pancras Internatinal স্টেশনবিভিন্ন স্থানে পিয়ানো রাখা আছে তাতে যে কেউ বসে বাজাতে পারেকাউকে লড়তে দেখিনি আজ অব্দি পিয়ানো বাজানোর সুযোগ পেতেবেশিরভাগ সময় একই জনকে দেখাযায় আবার অনেক নতুন বাজিয়েদের ও দেখা যায় কিছু দিন অন্তর অন্তরএকদিন ভীষণ দৌড় এর মধ্যে ছিলামদেখি কে একজন শ্বেতাঙ্গ বাজাচ্ছেফুলেফুলে, ঢলেঢলেঅমনি আমি দুলাইন গাইলাম ওর বাজনার সাথে সাথেতাতে বাজিয়ে অবাক হল ভেবে Scottish গানে এআবার কী ভাষাতাড়ার চোটে আর ওকে বোঝালাম না কোথায় গোলমালপরে একদিন দেখতে পেয়ে তখন বললামসেদিন আবার তার সঙ্গে ভিড়েছিল এক সাউথএসিয়ান যে এক বাক্যে Tagore বলতে  Rabindranath বলে দিলকিছুতেই বললনা সে কোথাকার , তামিলিয়ান বা গোয়ান হবে, আমার কীগোঁয়ার গোবিন্দ নয় নিশ্চয় গুরুদেবের নাম যখন বাতলে দিলতবে এই স্টেশন টার প্রচুর নামডাকপাশেই Kings Cross Station লাগোয়াসেখানে ওই বিখ্যাত  Harry Potter এর 9 3/4 Platform তাতে লোকের ছবি তোলার ভিড়  Kings Cross থেকে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল আর অন্য শহরের ট্রেন আসে যায়আবার St. Pancras International থেকেও যায় Leicester, Nottingham, Sheffield, Derby, Corby, Peterborough, আর যায় Paris, Brussels, Amsterdam! এক খানাpassport আরvisa থাকলে টিকিট কেটে চলেযাওয়া যায় একটা অন্য দেশে ! কিন্তু ট্রেন এর টিকিটের ভাড়া প্রচুরParis যেতে Victoria স্টেশন থেকে bus এ যাবার জুড়ি নেইআমিতো একবার Paris to London Victoria এলাম মাত্র চার পাউন্ড পঞ্চাশ পেন্স এ! এত কমেLondon এর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তেও যাওয়া যায়না !

এই St. Pancras স্টেশন নিয়ে আমার এত বাতেলা কেন? কারণ আমায় বাড়ী থেকে এটাই Central London আসার মূল জংশন তাই রাতবিরেতে এখানেই হয় আনাগোনারাত বারোটার পরেও প্রতিঘণ্টায় দুটো বা একটা করে ট্রেন যায় আমার বাড়ির দিকেআর সেই যাওয়ার পথেই একদিন short film এর চরিত্রের নায়ক খুঁজতে গিয়ে সেদিনের station manager কেই বলে বসলাম এই অধমের ছবিতে অভিনয় করবে কিনা ! Manager Indian অথবা Pakistani দেখতেঝাঁকড়া চুল, লম্বা আর বেশ জেল্লা আছে চেহারায়ছবিতে অভিনয় করতে রাজী হল নাপরে জানতে পারলাম উনি খোদ ওস্তাদ আমজাদ আলি খান এর নাতি! সরোদ ও বাজায়একদিন ওঁর বাজনাও শুনতে গেছি Nehru Centre-এখন দেখা হলে চাকফিও খাওয়ায় মাঝে মধ্যেকখনও মনে হয়, এই রে কথা বলতে গিয়ে ট্রেন না ছুটে যায়! তারপরই বোধহয় ট্রেনতো ওঁর ইশারা না পেলে ছাড়বেই না, কী মজা!
ছবির নায়ক কিন্তু মিলেছিলতাকে এখানকার হিন্দি সিনেমার আগে বিজ্ঞাপনেও দেখা যায়, immigration visa সংক্রান্ত solicitor দের এক কোম্পানির Ad-বড়ই ভালো ছেলেযা বলা হয়েছিল তার থেকে বেশিই output দিয়েছেবিদেশ বিভূঁই এই বা কম পাওয়া কীসে!

শুধু একখানা ভুল বলেছি প্রথমেকালচারশক্একটা প্রবল বোধকরি এখনওনিজের জীবনে আপাতঃ যে নায়ক সে যখন তখন প্রকাশ্যে হাত ধরলে বা জড়িয়ে ধরে চুমু খেলে মনে হয় এই বুঝি পেছন থেকে  Eliot park বা রবীন্দ্র সরোবরের গার্ড হেঁকে উঠলদাদা ! এখানে এসব কি হচ্ছে? এখানে বসবেন নাতাই কাহানী মে আপাতত no twist!

2 comments: