বিল'কুল' বিলেত !
একগাদা লাইন থাকা সত্বেও পাতাল রেলে হারানো দুষ্কর। সবজায়গায় সংকেত, তীর, ধনুক, কামান, বিমান (অর্থাৎ প্রস্থান) সব ছকে বাঁধা। বেলাইনে যাবার জো নেই। ভুল করে বেপথে গেলেও স্টেশনমাস্টার হাসিমুখে সহি পথ বাতলে দেবে। আর গরমকালে থেকে থেকে announce করবে জলের বোতল সঙ্গে রাখতে। তাছাড়া যাতে মালপত্র ফেলে না যায় কোন আত্মভোলা যাত্রী তা নিয়ে শীত, গ্রীষ্ম, শরত, বসন্ত সব সময় হ্যাজানো। এক একটা স্টেশনে আবার বিভিন্ন গান বাজনা চলে। তবে সেই গান রানী বা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারী কারও নেতৃত্বে রিহার্সেল না করেই পারফর্ম করে বলেই জানি!
সবচেয়ে মজার St. Pancras Internatinal স্টেশন। বিভিন্ন স্থানে পিয়ানো রাখা আছে। তাতে যে কেউ বসে বাজাতে পারে। কাউকে লড়তে দেখিনি আজ অব্দি পিয়ানো বাজানোর সুযোগ পেতে। বেশিরভাগ সময় একই জনকে দেখাযায় আবার অনেক নতুন বাজিয়েদের ও দেখা যায় কিছু দিন অন্তর অন্তর। একদিন ভীষণ দৌড় এর মধ্যে ছিলাম। দেখি কে একজন শ্বেতাঙ্গ বাজাচ্ছে “ ফুলেফুলে, ঢলেঢলে ”। অমনি আমি দু’লাইন গাইলাম ওর বাজনার সাথে সাথে। তাতে বাজিয়ে অবাক হল ভেবে Scottish গানে এআবার কী ভাষা। তাড়ার চোটে আর ওকে বোঝালাম না কোথায় গোলমাল। পরে একদিন দেখতে পেয়ে তখন বললাম। সেদিন আবার তার সঙ্গে ভিড়েছিল এক সাউথএসিয়ান যে এক বাক্যে Tagore বলতে Rabindranath বলে দিল। কিছুতেই বললনা সে কোথাকার , তামিলিয়ান বা গোয়ান হবে, আমার কী। গোঁয়ার গোবিন্দ নয় নিশ্চয় গুরুদেবের নাম যখন বাতলে দিল। তবে এই স্টেশন টার প্রচুর নামডাক। পাশেই Kings Cross Station লাগোয়া। সেখানে ওই বিখ্যাত Harry Potter এর 9 3/4 Platform তাতে লোকের ছবি তোলার ভিড়। Kings Cross থেকে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল আর অন্য শহরের ট্রেন আসে যায়। আবার St. Pancras International থেকেও যায় Leicester, Nottingham, Sheffield, Derby, Corby, Peterborough, আর যায় Paris, Brussels, Amsterdam! এক খানাpassport আরvisa থাকলে টিকিট কেটে চলেযাওয়া যায় একটা অন্য দেশে ! কিন্তু ট্রেন এর টিকিটের ভাড়া প্রচুর। Paris যেতে Victoria স্টেশন থেকে bus এ যাবার জুড়ি নেই। আমিতো একবার Paris to London Victoria এলাম মাত্র চার পাউন্ড পঞ্চাশ পেন্স এ! এত কমেLondon এর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তেও যাওয়া যায়না !
এই St. Pancras স্টেশন নিয়ে আমার এত বাতেলা কেন? কারণ আমায় বাড়ী থেকে এটাই Central London আসার মূল জংশন তাই রাতবিরেতে এখানেই হয় আনাগোনা। রাত বারোটার পরেও প্রতিঘণ্টায় দুটো বা একটা করে ট্রেন যায় আমার বাড়ির দিকে। আর সেই যাওয়ার পথেই একদিন short film এর চরিত্রের নায়ক খুঁজতে গিয়ে সেদিনের station manager কেই বলে বসলাম এই অধমের ছবিতে অভিনয় করবে কিনা ! Manager Indian অথবা Pakistani দেখতে। ঝাঁকড়া চুল, লম্বা আর বেশ জেল্লা আছে চেহারায়। ছবিতে অভিনয় করতে রাজী হল না। পরে জানতে পারলাম উনি খোদ ওস্তাদ আমজাদ আলি খান এর নাতি! সরোদ ও বাজায়। একদিন ওঁর বাজনাও শুনতে গেছি Nehru Centre-এ। এখন দেখা হলে চাকফিও খাওয়ায় মাঝে মধ্যে। কখনও মনে হয়, এই রে কথা বলতে গিয়ে ট্রেন না ছুটে যায়! তারপরই বোধহয় ট্রেনতো ওঁর ইশারা না পেলে ছাড়বেই না, কী মজা!
ছবির নায়ক কিন্তু মিলেছিল। তাকে এখানকার হিন্দি সিনেমার আগে বিজ্ঞাপনেও দেখা যায়, immigration visa সংক্রান্ত solicitor দের এক কোম্পানির Ad-এ। বড়ই ভালো ছেলে। যা বলা হয়েছিল তার থেকে বেশিই output দিয়েছে। বিদেশ বিভূঁই এই বা কম পাওয়া কীসের!
শুধু একখানা ভুল বলেছি প্রথমে। কালচারশক্ একটা প্রবল বোধকরি এখনও। নিজের জীবনে আপাতঃ যে নায়ক সে যখন তখন প্রকাশ্যে হাত ধরলে বা জড়িয়ে ধরে চুমু খেলে মনে হয় এই বুঝি পেছন থেকে Eliot park বা রবীন্দ্র সরোবরের গার্ড হেঁকে উঠল “দাদা ! এখানে এসব কি হচ্ছে? এখানে বসবেন না ” তাই কাহানী মে আপাতত no twist!
শুরুতেই
স্পয়েলার অ্যালার্ট দিয়ে নিচ্ছি। যারা যারা গুটি পায়ে বিলেত ভ্রমণে নিজে নিজে জানতে চাও তাদের
এটা না পড়াই শ্রেয়। তবে এখানে ঠিক প্রথমদিন
বিলেতে পা রেখে কেমন অনুরণন, আবেগ, কালচার-শক্ ইত্যাদি উথলিয়ে উঠল, এমন উপাদান খুঁজতে গেলেও কেস খাবে। পড়েছ মোঘলের হাতে..(এমনই কি বাগধারা ? ধ্যাতছাই !!) মোটকথা, ভবঘুরে লেভেল – মোঘল... তাই হারিয়ে যাবার কোনও সীন্ নেই। মন চাইলেই কি হারানো যায় রে হাঁদা ?
একগাদা লাইন থাকা সত্বেও পাতাল রেলে হারানো দুষ্কর। সবজায়গায় সংকেত, তীর, ধনুক, কামান, বিমান (অর্থাৎ প্রস্থান) সব ছকে বাঁধা। বেলাইনে যাবার জো নেই। ভুল করে বেপথে গেলেও স্টেশনমাস্টার হাসিমুখে সহি পথ বাতলে দেবে। আর গরমকালে থেকে থেকে announce করবে জলের বোতল সঙ্গে রাখতে। তাছাড়া যাতে মালপত্র ফেলে না যায় কোন আত্মভোলা যাত্রী তা নিয়ে শীত, গ্রীষ্ম, শরত, বসন্ত সব সময় হ্যাজানো। এক একটা স্টেশনে আবার বিভিন্ন গান বাজনা চলে। তবে সেই গান রানী বা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারী কারও নেতৃত্বে রিহার্সেল না করেই পারফর্ম করে বলেই জানি!
সবচেয়ে মজার St. Pancras Internatinal স্টেশন। বিভিন্ন স্থানে পিয়ানো রাখা আছে। তাতে যে কেউ বসে বাজাতে পারে। কাউকে লড়তে দেখিনি আজ অব্দি পিয়ানো বাজানোর সুযোগ পেতে। বেশিরভাগ সময় একই জনকে দেখাযায় আবার অনেক নতুন বাজিয়েদের ও দেখা যায় কিছু দিন অন্তর অন্তর। একদিন ভীষণ দৌড় এর মধ্যে ছিলাম। দেখি কে একজন শ্বেতাঙ্গ বাজাচ্ছে “ ফুলেফুলে, ঢলেঢলে ”। অমনি আমি দু’লাইন গাইলাম ওর বাজনার সাথে সাথে। তাতে বাজিয়ে অবাক হল ভেবে Scottish গানে এআবার কী ভাষা। তাড়ার চোটে আর ওকে বোঝালাম না কোথায় গোলমাল। পরে একদিন দেখতে পেয়ে তখন বললাম। সেদিন আবার তার সঙ্গে ভিড়েছিল এক সাউথএসিয়ান যে এক বাক্যে Tagore বলতে Rabindranath বলে দিল। কিছুতেই বললনা সে কোথাকার , তামিলিয়ান বা গোয়ান হবে, আমার কী। গোঁয়ার গোবিন্দ নয় নিশ্চয় গুরুদেবের নাম যখন বাতলে দিল। তবে এই স্টেশন টার প্রচুর নামডাক। পাশেই Kings Cross Station লাগোয়া। সেখানে ওই বিখ্যাত Harry Potter এর 9 3/4 Platform তাতে লোকের ছবি তোলার ভিড়। Kings Cross থেকে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল আর অন্য শহরের ট্রেন আসে যায়। আবার St. Pancras International থেকেও যায় Leicester, Nottingham, Sheffield, Derby, Corby, Peterborough, আর যায় Paris, Brussels, Amsterdam! এক খানাpassport আরvisa থাকলে টিকিট কেটে চলেযাওয়া যায় একটা অন্য দেশে ! কিন্তু ট্রেন এর টিকিটের ভাড়া প্রচুর। Paris যেতে Victoria স্টেশন থেকে bus এ যাবার জুড়ি নেই। আমিতো একবার Paris to London Victoria এলাম মাত্র চার পাউন্ড পঞ্চাশ পেন্স এ! এত কমেLondon এর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তেও যাওয়া যায়না !
এই St. Pancras স্টেশন নিয়ে আমার এত বাতেলা কেন? কারণ আমায় বাড়ী থেকে এটাই Central London আসার মূল জংশন তাই রাতবিরেতে এখানেই হয় আনাগোনা। রাত বারোটার পরেও প্রতিঘণ্টায় দুটো বা একটা করে ট্রেন যায় আমার বাড়ির দিকে। আর সেই যাওয়ার পথেই একদিন short film এর চরিত্রের নায়ক খুঁজতে গিয়ে সেদিনের station manager কেই বলে বসলাম এই অধমের ছবিতে অভিনয় করবে কিনা ! Manager Indian অথবা Pakistani দেখতে। ঝাঁকড়া চুল, লম্বা আর বেশ জেল্লা আছে চেহারায়। ছবিতে অভিনয় করতে রাজী হল না। পরে জানতে পারলাম উনি খোদ ওস্তাদ আমজাদ আলি খান এর নাতি! সরোদ ও বাজায়। একদিন ওঁর বাজনাও শুনতে গেছি Nehru Centre-এ। এখন দেখা হলে চাকফিও খাওয়ায় মাঝে মধ্যে। কখনও মনে হয়, এই রে কথা বলতে গিয়ে ট্রেন না ছুটে যায়! তারপরই বোধহয় ট্রেনতো ওঁর ইশারা না পেলে ছাড়বেই না, কী মজা!
ছবির নায়ক কিন্তু মিলেছিল। তাকে এখানকার হিন্দি সিনেমার আগে বিজ্ঞাপনেও দেখা যায়, immigration visa সংক্রান্ত solicitor দের এক কোম্পানির Ad-এ। বড়ই ভালো ছেলে। যা বলা হয়েছিল তার থেকে বেশিই output দিয়েছে। বিদেশ বিভূঁই এই বা কম পাওয়া কীসের!
শুধু একখানা ভুল বলেছি প্রথমে। কালচারশক্ একটা প্রবল বোধকরি এখনও। নিজের জীবনে আপাতঃ যে নায়ক সে যখন তখন প্রকাশ্যে হাত ধরলে বা জড়িয়ে ধরে চুমু খেলে মনে হয় এই বুঝি পেছন থেকে Eliot park বা রবীন্দ্র সরোবরের গার্ড হেঁকে উঠল “দাদা ! এখানে এসব কি হচ্ছে? এখানে বসবেন না ” তাই কাহানী মে আপাতত no twist!
বাহঃ।
ReplyDeleteবাহঃ।
ReplyDelete