হৃদয়শব্দ
একটা সকাল এলে কফির গন্ধ জেগে ওঠে । এমন কিছু
কথা রোজ রোজ বলে মানুষ যেগুলো বলা হয় অথচ কোথাও পৌছয় না । যেমন কফির কাপের কিছু
বাষ্প হাওয়ায় মিলিয়ে যায় । অথবা যাকে রোজ রোজ সেই কথাগুলো বলা হয় বা যেখানে বলা হয়
তার যোগফল = ০ । শূন্য তো সর্বত্রই । অথচ কী কী বলা উচিত ছিলো বা বলা যায়নি বা আরো
শক্তভাবে কিছু বলা যেত কিনা, ইত্যাদি, নানা ভেদ আসে মনে । সঠিক
সময়ে এমন অনেক কথাই বলা যায়না যা নিয়ে পরে মনে হয় আরো কঠিন স্টান্স নেবার ছিলো ...
কিন্তু মানুষ কি কিছু করে? যেমন টা ঘটবার ঘটবে, যেটা ঘটে ওঠার না সেটা মাঠে
মারা যাবে তা খুব স্বাভাবিক। জোর করে কিছু ধরে রাখা কি যায় ? যদি না সব টা সহজ ভাবে থাকে ।
এসব ভাবতে ভাবতে মানুষ সিপিউ ইউপিএস ইত্যাদি নিভিয়ে সটান শুয়ে পড়ে । চোখ বন্ধ করে
নিজের মধ্যে কথা বলতে থাকে । লাটাই থেকে মাঞ্জা খুলতে খুলতে যেমন মুখপোড়া আকাশে
উঠতে থাকে । মানুষ একদিন ঘুড়ি ওড়াতে ভয় পেত, বহুদূর আকাশ অবধি ঘুড়ি ধরে হাওয়ায় টান হয়ে থাকা মাঞ্জা হাতে ধরে মনে
হয়েছিলো যদি ঘুড়ি টা টেনে আকাশে টেনে তুলে নেয় তাকে ? আকাশ,
যেখানে মেঘ ঘন হয় । কালো মেঘ দেখে মানুষের মৃত্যুভয় হয়েছিলো ।
স্বপ্নে কোনও মৃত্যুভয় থাকেনা । যতদূর খুশি উড়তে উড়তে যাওয়া যায় । বাড়ির কার্ণিশ
এর পরে রেলমাঠ পেরিয়ে সেকী ওড়া, সেকী ওড়া, ঘুম যদি মৃত্যু হয় তাহলে স্বপ্নে আর মরার ভয় থাকে কি ? এভাবে
উড়তে উড়তে ঘুম ভেঙ্গে গেছিলো মানুষের হঠাত । তারপর অনেককিছু মনে নেই । সবটা মনে
রাখা যায়না । উপায় না থাকলেও অনেক কিছুই ভুলে যেতে হয় । কিংবা ভুলে যেতে বাধ্য করে
স্মৃতি যা জড় হলে বিস্মৃতি বলো তাকে । রেলগাড়ী মানুষের বড় প্রিয় । অনন্ত চা এর
বাগান পেরিয়ে কত পাহাড়ের পড়ে হারিয়ে যাওয়ার নদী পাথরের গায়ে অবিরাম স্নান হয়ে আছে । নদীর
ওপরে শুধু ঝুলে থাকা ব্রীজ । মানুষ ব্রীজের ওপরে গিয়ে সিগারেট জ্বালে । হাওয়ার
শব্দ শুনে দুলে চলে ব্রীজ । যেমন দ্যাখো, হাওয়ার তো রঙ নেই, ব্রীজের
গায়ে বাঁধা প্রেয়ার ফ্ল্যাগদের রঙে রঙে তার তরঙ্গ ব্যক্ত হয়েছে । তেমনই জলের কি রঙ?
পাথরের বিন্যাসে স্রোতের ছন্দ নিলো জল, যার
ধারা কে নদী বললে তুমি । তুমি এক আমির মতই । স্মৃতি
থেকে বিস্মরণে আমার থেকেও আরও সাবলীল । নদীর মতই ঐ তুমি , নদীর জলের মত ভেসে দূরে চলে
যাও, যেন আর মনে নাই পড়ে । মানুষ ব্রীজের এপ্রান্তে এসে
সিগারেট জ্বালে । কিছু তো জ্বালাতে হবে । মন নাকি সকলই পোড়ায় । ওপারে সে মানুষী কে
দ্যাখে, মানুষী যে মানুষ কে ভুলেই যেতে চেয়েছিলো । আচমকা
হুবহু সেই মানুষ কে দেখতে পেয়ে, তার অবিশ্বাস্য লাগে । হারিয়ে যেতেই যদি পাহাড়েই আসা, সে পাহাড়ে অতীত ঘনালো ? মানুষী ভাবলো মানুষ তার পিছু
নিয়েছে কোন অন্য মানুষের কাছে তার গোপন ট্যুরের যত খবরাখবর পেয়ে। মানুষ
ভাবলো সবই সিনেমা । বাকীটা স্বপ্ন, সেইসব মনোবিকার যাদের অর্থ খোঁজা ভুল । যদি
তুমি জোর করে ভুলে যেতে চাও আর ভুলে যেতে চাওয়া যদি সামনে এসে দাঁড়ায়?
সন্ধ্যে নামে নিবিড় পাহাড়ে । মানুষীর মুখ শুধু
থমথমে হয় । চুপ করে থাকে । চুপ করে থাকা এক সাঙ্ঘাতিক নেশা । নেশার মধ্যে যায়
মানুষ আর মানুষী একটা ঘুমের জগতে গিয়ে ভুলে যায় কাকে সে দেখেছে । সকালে সে মানুষী
টানাব্যাগ নিয়ে ব্রীজ পেরিয়ে গিয়ে, গাড়িতে চেপেছে । গাড়ীর টায়ার রাস্তায়
দাগমাত্র রেখে তাকে নিয়ে ফিরেছে শহরে । সেই
শহর থেকে আরো এক দূরের শহরে একটা রেলগারী ঐ মানুষী কে নিয়ে গেছে । মানুষ কেবল এক
অবোধের মত ঘুমিয়েছে তারপর । ঘুমের পরে স্বপ্ন কি দেখেছে তার সারমাত্র মনে নেই ।
জেগে উঠলে মানুষ স্বপ্নের অনেকটাই ভুলে যায় । ঠিক যেমন গভীর ঘুমের ভেতরে, অনেক ভেতরে গেলে হৃদয়শব্দ শোনা
যায়না আর ...
দূরে কোথাও মনটা চলে গেল।
ReplyDelete