একমেবঅদ্বিতীয়ম
১.
তোমার প্রত্যেকটা প্রশ্বাসে সেদিন স্বাভাবিক
হাওয়া প্রবেশ করছে আর নিশ্বাসকালে বেরিয়ে আসছে ঝড়, মা কে ডাকছ - যথেষ্ট চেঁচিয়ে
ডাকছ অথচ মা তোমায় শুনতেই পাচ্ছেনা, বন্ধুর সাথে দাবা খেলতে
বসে তোমরা একে অপরকে জিতিয়ে দিতে চাইছ, তোমার শৈশব - ট্রেনের
সমস্ত জানলার ধার তো পেয়েছে কিন্তু এও বোঝার ক্ষমতা তুমি এই মাত্র পেরিয়ে এলে -
আসলে জানলায় শিক দেওয়া বলেই সে দরজা নয়...
২.
তুমি জানলায় ফালি ফালি হওয়া রোদ ততটাই ভালোবাসো
যতটা সেই রোদ কে চৌকাঠ মাড়াতে দিতে চাওনা, বাড়ির দেওয়ালে ড্যাম্প দেখে তোমার কষ্ট
হচ্ছে অথচ আদ্যিকালের পলেস্তারাখসে যাওয়া বাড়ি দেখে তোমার যে কোনও একটা ঘরে দুদিন
থাকার পর বারান্দার দিকে ছুটে যাওয়ার ইচ্ছে প্রবল, বোধ হবার
পর তুমি বুঝতে পারলে তুমি যাযাবরের সন্তান হতে চেয়েছিলে - চেয়েছিলে একটা উট কে
ভালোবেসে মরুভূমি পেরোবে, কিন্তু থালায় বেড়ে দেওয়া গরম ভাতে
লেগে থাকা মায়ের হাতের গন্ধ তোমায় সেই মুহুর্তে অজ্ঞান করে দিল...
৩.
গত এক হপ্তা ধরে নাস্তিকতা বোঝার চেষ্টা করছ
কিন্তু প্রিয় মানুষটির ছবি দেখতে দেখতে তুমি বুঝতেইপারোনি ৬.৮
রিখটারস্কেলেরভূমিকম্প তোমার গীটার টা কে মাটিতে ফেলে দিয়ে গেছে, তুমি ভেতর ভেতর এত ক্লান্ত যে
নিজেকে ভালোবাসবার শক্তি টুকু তোমার নেই অথচ রাস্তায় অন্যমনস্ক বৃদ্ধা ও তার নাতি
বাসের চাকায় পিষে যাবার ঠিক আগের মুহুর্তে তাদের হ্যাঁচকা টান মেরে বাঁচিয়েতিনজন
মিলে এক বোতলে জল খাচ্ছ আর ভাবছ তোমার পৃথিবীর মায়েদের সাথে আগামীকালই একটা গ্রুপ
ফোটো তুলে রাখবার কথা...
৪.
স্টেশনের সাধুটিকে দু' টাকা ভিক্ষে দিতে গিয়ে সেই
সাধু তোমায় ফিরিয়ে দিয়ে ভাঙা বাংলায় বলছে - 'তুমার চোকে ঝড়
হামি নিতে পারছি না বেটা, এ হাত থিকে দো টাকা কিভাবে লুবো,
জিতের্যহো ' আর তুমি তার আধ ঘন্টা আগেই
টয়লেটের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ ধুয়ে চুল ঠিক করেছ, ট্রেনের
কামরায় দুই দেওয়ালে সাঁটানোনিখোঁজের বিজ্ঞাপনের মুখ নিজেই নিজেকে সোজাসুজি পাথর
দৃষ্টিতে চেয়ে আছে - মাঝখানের প্যাসেজ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে লোক আর তখনই এক পরিচিত হাওয়া জানলা দিয়ে আছড়ে পড়ল তোমার ওপর - ঘেঁটে দিল চুলের
গোছ - শ্মশানফেরতগঙ্গাজলছিটিয়ে আসা যে সমস্ত মাথার চুল কে যেমনভাবে রুখু স্নান বলে,
ঠিক আগেরদিনই ঘুম থেকে উঠে তুমি জানতে পেরেছিলে সবাই তোমায় একে একে
এসে দেখে গেছে আর তুমি বুঝতেওপারোনি...
৫.
তোমার একটা রাস্তা আছে যাকে তুমি পিঠে মুড়ে
নিয়ে ঘুরে বেড়াও - ইচ্ছে মতন বিছিয়ে নাও যখন যেখানে পারো - এক দুটো মানুষও সে
রাস্তার ঠিকানা জানে কিন্তু আজ প্রয়োজন সত্ত্বেও তুমি সেই রাস্তা জ্যোৎস্নায় রেখে
দিয়ে এসেছ যে কারনে কম্বল দেওয়া হয় রোদে...
সূর্যের ভ্রুকুটিবদ্ধ থাপ্পড় সয়ে নেওয়া তুমি
একদিন সেই পূর্ণিমায় কিনা হাত পুড়িয়ে ঘরে ফিরেছিলে, কিন্তু তখন তুমি নিজেকে
দোষারোপে ব্যস্ত। তোমার প্রত্যেকটা প্রশ্বাসে সেদিন স্বাভাবিক হাওয়া প্রবেশ করছে
আর নিশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসছে ঝড়, সামনে জ্বলতে থাকা সিগারেট
খড়ের মতোপুড়ে যাচ্ছে তুমি তখন এমনই হন্যে হয়ে আছ।
৭.
মাঝেমাঝে তোমার হাত থেকে লেখা পালায়... জাস্ট
পালায়, ফেরার নাম
করেনা... আবার ঝড়ের মতো ফেরে... তোমার এই নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই, তুমি চাইলেই লিখে যেতে পারতে... কিন্তু এক ডাইরির মতন লেখা তোমার এক কোনায়
আছে যাকে সত্যি সত্যি যদি লেখো তোমার সত্যিকারের আঙুল খসে যাবে তার আগে সেই
পাতাগুলো পুড়ে যাবে, টাইপ করতে করতে ব্লাস্ট হয়ে যাবে তোমার
ফোন ল্যাপটপ... তুমি সেদিন একটা সেখান থেকে তুলে এনে লিখতে গিয়ে তোমার ও তোমার
তর্জনী কেটে গেল, জিভ কামড়ে ফেললে, ঘামের
নুন গড়িয়েজ্বলিয়ে দিল চোখ, তোমার কানে তালা লেগে গেল,
তোমার প্রত্যেকটা প্রশ্বাসে সেদিন... যাহ! ভুলে গেলাম। তোমার
প্রত্যেকটা প্রশ্বাসে সেদিন... সত্যিই ভুলে গেলাম।
বাদ দাও।
বলো... কেমন আছ?
ভালো লাগলো
ReplyDeleteভালো লাগলো
ReplyDelete