ছোট
ও পাতলা একটি কাগজ ওরফে পত্রিকা আমার হাতে এসে পড়ে। কভারে লেখা ‘নির্বেদ’। আকস্মিকভাবে এসে পড়েনি। কোনও এক রোববার সকালে
আমি হাজির ছিলাম কবি অরণি বসুর বাড়িতে। হাতে তুলে দিয়েছিলেন পুরনো নির্বেদের কিছু
সংখ্যা। কথা হয়েছিল মানিক চক্রবর্তী নিয়ে। এবং অবশ্যই আরও অনেককে নিয়েই। এর আগে
অবশ্য ‘নির্বাচিত কবিতা’র সঙ্গে
আলাপ হয়ে গেছে আমার। আস্তে আস্তে পড়ে ফেলেছিলাম ‘পনেরো হাজার শব্দের
গনেশ পরিবার’-এর মতো অসামান্য উপন্যাসটিও। ‘জনৈক বন্ধুর মেয়ে’ ছড়িয়ে দিয়েছি মুখে মুখে, রাস্তায়, ঘাটে।
বইদুটিও হাতফেরতা হয়ে গেছে। নবারুণ ভট্টাচার্য যেমন বলেছিলেন কিছু
কিছু বইয়ের ভবিষ্যতই হাতফেরতা হয়ে থাকে, সেরকমই।
পরে
চেষ্টা করেছি জানতে অ্যান্টিকবিতা কি ও কেন? রাণা
রায়চৌধুরীর মুখে প্রথমবার শুনেছিলাম চমৎকার এই কাগজের কথা। মানিক চক্রবর্তী এবং
আমাদের রাণাদার অনেক চিঠি আদান-প্রদানও হয়েছিল একসময়। সেও বেশ মজার চিঠি। রাণাদা
কোনও এক কালে সে চিঠি খুঁজে পেলে আমরা না হয় ছাপব সেসব। একসময় ‘নাটমন্দির’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল রাণাদার মানিক চক্রবর্তী নিয়ে লেখা। পাঠক নিশ্চয়ই
এসবের খোঁজ লাগাবেন, পড়ে ফেলবেন এবং জানাবেন।
না পেলে আমাদের ব্যাস্ত করে তুলবেন নিশ্চয়।
লিটল
ম্যাগাজিন ক্রমাগত টেস্ট পেপার ও রায় অ্যান্ড মার্টিনের মতো দেখতে হয়ে যাচ্ছে যে
সময়, সেসময় ‘নির্বেদ’-এর মতো কাগজকে ফিরে দেখতে পেলে কারও কারও
একটু ভালো লাগবে। এই সংখ্যায় সেই নির্বেদ-এ প্রকাশিত মানিক চক্রবর্তীর একটি গদ্য, যুগোশ্লাভ
কবিতা নিয়ে। এই বিভাগের প্রায় সব সংখ্যারই ঋণ থাকবে অরণি বসুর। আমি, স্রেফ
হাওয়ার মতো উড়িয়ে আনব এক একবার, পুরনো সব গদ্য।
- সম্বিত বসু














No comments:
Post a Comment